একটা ছোট্ট গ্রাম ছিল যেখানে সবাই বেশ সুখে-শান্তিতে বাস করত। গ্রামের নাম ছিল সুখপুর। সেখানে থাকত এক বুদ্ধিমান ছেলেটি, নাম রাজু। রাজুর বয়স ১০ বছর, কিন্তু তার মধ্যে এত কৌতূহল ছিল যে গ্রামের সবাই তাকে "কৌতূহলী রাজু" বলে ডাকত।
একদিন রাজু গ্রামের পুরনো লাইব্রেরিতে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে একটা ধুলোমাখা বই খুঁজে পেল। বইটার ওপর লেখা ছিল, "জাদুর বই"। রাজু তো খুশিতে আটখানা! সে ভাবল, "বই পড়া আমার খুব পছন্দ, যদি এটা জাদুর বই হয়, তাহলে তো মজাই মজা!"
সে বইটা খুলে বসলো আর কী আশ্চর্য! বইটার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল রং-বেরংয়ের এক পোকা। পোকাটা যেন কথা বলতে পারল, বলল, "হ্যালো, রাজু! আমি তোমার জাদু গাইড, তুমি এই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠায় নতুন কিছু মজার জিনিস পাবে, যা তোমার জীবনকে বদলে দেবে।"
রাজু তো অবাক! পোকাটাকে দেখে সে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কি সত্যিই জাদুর পোকা?"
পোকাটা হেসে বলল, "হ্যাঁ, আমি তোমাকে এমন কিছু শিখাবো, যা তুমি কখনো কল্পনাও করনি। তবে, আগে আমাকে এক কাপ মধু এনে দাও!"
রাজু ভাবল, "মধু কেন?" কিন্তু পোকাটা মিষ্টি বলছিল বলে রাজু গ্রামের মাঠে গিয়ে মধু সংগ্রহ করে নিয়ে এল। পোকাটা মধু খেয়ে বলল, "এবার শুরু করা যাক!"
বইয়ের প্রথম পাতায় লেখা ছিল, "যদি তোমার ইচ্ছাশক্তি থাকে, তবে সব অসম্ভব সম্ভব।" রাজু ভাবল, "এটা তো সহজ কথা, এটাই জাদু?"
পোকাটা বলল, "দেখো রাজু, যে কোনো জিনিসকে সম্ভব করতে হলে তোমার ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে। এবার চোখ বন্ধ করো আর ভাবো, তুমি তোমার সবচেয়ে প্রিয় খেলনাটা সামনে দেখতে পাচ্ছো।"
রাজু চোখ বন্ধ করলো, আর অবাক হয়ে দেখল তার প্রিয় খেলনাটা সত্যিই সামনে এসে হাজির! সে খুশিতে নেচে উঠল।
এভাবে, প্রতিদিন রাজু নতুন নতুন মজার মজার জিনিস শিখতে লাগল। একদিন বইয়ের পাতা থেকে একটা ছোট্ট ভূতুড়ে চরিত্র বের হয়ে এল। তবে, সেটা ছিল মজার ভূত! সে রাজুর সঙ্গে দুষ্টুমি করতে লাগল। তারা একসঙ্গে হেসে কুটিকুটি খেলতে লাগল। গ্রামের সবাই বলল, "রাজু, তোমার এই জাদুর বইটা সত্যিই মজার!"
শেষমেশ,রাজু বুঝল যে বইটা যতটা জাদুর, তার চাইতেও বেশি শিক্ষনীয়। পোকাটা তাকে বলল, "রাজু, পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো জাদু হলো শিক্ষা আর মজা দুটো একসঙ্গে পাওয়া। তুমি যখন শেখা আর মজা একসঙ্গে উপভোগ করবে, তখনই তোমার জীবন সত্যিকার অর্থে বদলাবে। "রাজু হাসিমুখে বলল, "তাহলে তো আমি এখন থেকে শেখার জাদুকর!"
Nice😍🥰
ReplyDeletenice story
ReplyDelete